বিয়ের আগে নিজেকে করুন এই প্রশ্নগুলো

প্রেমের হোক আর পরিবারের পছন্দে, বিয়ের পর জীবনটা কেমন হবে, তা আগে থেকে বলে দেওয়া যায় না। আগে সব ঠিকঠাক মনে হলেও বিয়ের পর ছোট বিষয়ে দ্বন্দ্ব দাম্পত্যে ফাটল ধরাতে পারে। বিয়ের আগেই যদি হবু জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কিছু বিষয়ে আলোচনা করে নেওয়া যায়, তাহলে এসব সমস্যা অনেকটা কম হতে পারে।

জীবনসঙ্গীকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকেও কিছু প্রশ্ন করা প্রয়োজন। এই সম্পর্ক থেকে আপনি কী চান, বিয়ের ফলে আপনার মধ্যে কী পরিবর্তন আসতে পারে ও সঙ্গীর কাছে আপনি কী আশা করছেন, সে বিষয়গুলো বোঝা যাবে তাতে।

প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হলো।

১. সম্পর্কটি কি যথাযথ

বিয়ের আগে অনেকেই ভেবে রাখেন, সংসার চালানোর আর্থিক খরচ দুজনই ভাগাভাগি করে নেবেন। কিন্তু মানসিক শ্রমের বিষয়েও কি আপনারা সমান সমান? একজন হয়তো সবসময়ই সঙ্গীর মন ভালো রাখার চেষ্টা করছেন। তার চাহিদাটাকে আগে রাখছেন। অন্যজন তেমন কিছু করছেন না। এমন হলে সম্পর্কটা আর ন্যায্য থাকে না। প্রেমের সময়ে হয়তো তা সম্ভব। কিন্তু বিয়ের পর চাকরি, সংসার, সন্তান সামলানোর সময়ে এমন ভারসাম্যহীনতা সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। তাই ভেবে নিন, আপনার কাছে সম্পর্কটি যথাযথ মনে হচ্ছে কি না।

২. বাবা-মা কি আমার মাঝে কিছু ভুল ধারণা তৈরি করেছেন?

প্রতিটি দম্পতিই আলাদা। কিন্তু অনেক সময় বাবা-মায়ের দাম্পত্য থেকে কিছু প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যায় আমাদের মাঝে। আপনার বাবা-মা হয়তো সন্তানের পেছনে অনেক বেশি সময় দিয়েছেন, নিজেদের জন্য তেমনটা দেননি। আপনার দাম্পত্যও ঠিক তেমন হবে, এটা ভেবে নেওয়া যায় না। আপনি আশা করতে পারেন না, জীবনসঙ্গী ঠিক তেমন একটি সংসার চাইবে, যা আপনার বাবা-মায়ের ছিল। তাই নিজের এসব প্রত্যাশা নিয়ে আগে থেকে চিন্তা করা জরুরি।

৩. আমি কি সন্তান চাই?

বিয়ের পর কিছু কিছু বিষয়ে সমঝোতায় আসা যায়। যেমন: দেয়ালের রং আপনি নীল চাইলেও সঙ্গীর ইচ্ছায় তা সাদা হতেই পারে। কিন্তু সবকিছু এত সহজ নয়। তার মাঝে একটি হলো সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তটি। একজন সন্তান চায়, আরেকজন চায় না। তাহলে এর মাঝে বোঝাপড়ার কোনো জায়গা নেই। আপনি সন্তান চান, অথচ তিনি চান না। এমন একটি সম্পর্কে থাকা এবং সেই মানুষটিকে বিয়ে করা উচিত হবে কি না, সময় থাকতেই তা ভেবে নিন।

৪. আপনার জীবনের লক্ষ্যের সঙ্গে তার জীবনের লক্ষ্য মিলবে কি?

বিয়ের সময়ই শুধু আপনাদের ইচ্ছার মিল থাকতে হবে, তা নয়; বরং ১০ বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সেটাও ভেবে নিন। আপনি হয়তো জানেন, সঙ্গী ১০ বছরের মধ্যে সন্তান চায়, নিজের জমি বা বাড়ি তৈরি করতে চায়। আপনিও কি তাই চান? আপনার স্বপ্নটি কি এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এসব দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই করতে হবে।

৫. সফল দাম্পত্য জীবনের জন্য আমি কী করতে পারি?

বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সবাই প্রস্তুতি নিন। নারীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিউটি ট্রিটমেন্ট করেন, যত্ন করে বাছাই করেন বিয়ের পোশাক, গয়না, ফুল। পুরুষরাও পোশাকের বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বিয়ের দিনটির ব্যাপারে যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বিয়ের পরের জীবনটির জন্য তার ছিটেফোঁটা প্রস্তুতিও নেন না অনেকে। এ কারণেই বেশ দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে হয় তাদের। দরকার হলে দুজন মিলেই এ প্রস্তুতি নিতে পারেন। সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য বই পড়তে পারেন বা ম্যারেজ কাউন্সিলিং করতে পারেন।

Add Comment