1. admin@binodonbarta24.com : admin :
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন ও ঝুঁকি কমাতে করণীয়   - বিনোদন বার্তা ২৪।
শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষন ও ঝুঁকি কমাতে করণীয়  

বিনোদন বার্তা ২৪ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৫০

Tags: ,

শরীর সুস্থ রাখতে হলে সবার আগে সুস্থ রাখতে হবে এই হৃদযন্ত্রকে।আমাদের মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই হার্ট বা হৃদযন্ত্র।

হার্টের রোগের পরিণতি হতে পারে আমাদের জীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যু, এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে হার্টকে সুস্থ রাখতে। প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয়, এর বড় একটি অংশ হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।আর এটি হতে পারে যে কোনো বয়সেই।

হার্ট অ্যাটাক শুনলেই ভয় লাগে৷যার একবার হার্ট অ্যাটাক হয় তাকে বাকি জীবন সতর্ক থাকতে হয়। যে কোনো মানুষের যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে৷ শরীরচর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ এবং অনিয়ম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। সম্প্রতি এক রিপোর্টে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে । এই লক্ষণগুলি দেখে আপনি যদি আগাম সতর্ক হয়ে যান তাহলে একটা জীবন বেঁচে যেতে পারে৷

সাধারণত হৃদপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল না হলে বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যটাক হয়৷ এছাড়া রক্ত চলাচলের সময় শিরা-উপশিরাগুলোতে কোনো ব্লক থাকলে হার্ট অ্যাটাক হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকেই দেহে কিছু পরিবর্তন হয়৷ যেগুলোতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে৷ তখন দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে অথবা রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আপনার অসম্ভব ক্লান্তি লাগবে৷ রক্তের শিরা- উপশিরাগুলোতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়ে৷ এটা হৃদরোগের প্রধানতম লক্ষণ। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গেলে ঝিমুনি আসে।

রক্ত চলাচল কমে গেলে কোনো কারণে দেহে ঘাম হলে তারপর বেশ ঠাণ্ডা লাগে৷বুক, বাহু, পিঠ এবং কাঁধে ব্যাথা হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং সংকোচন হার্ট এর অসুস্থতার একটি বড় লক্ষণ।
হার্ট অ্যাটাকের শিকার অনেককেই এক মাস আগে থেকে ঠাণ্ডা-সর্দি বা ফ্লু-তে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।

ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ায় রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে৷ হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়৷ তখন শ্বাসকষ্ট এর সমস্যা দেখা যায়।
বমিভাব, বদহজম, বুক হৃৎপিণ্ডে জ্বালাপোড়া করা বা তলপেটে ব্যথাও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।সুতরাং এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

ঢাকার বারডেম হাসপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগের সহযোগী আধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান ডা: মো: আজিজুল বারী হার্টের রোগ হওয়ার জন্য ধুমপানকে প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধুমপায়ীরা সব থেকে বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে।

এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস এবং বাড়তি ওজনের জন্য হৃদরোগ হতে পারে। হাইপার টেনশন এবং পারিবারিক জেনেটিক অসুস্থতার ফলেও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
একবার হৃদরোগ হয়ে গেলে এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয় বহুল। আর তাই আগেই প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা নিলে রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে ডা. মো. আজিজুল বারী বলেন, ধুমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, অ্যালকোহলসহ সব ধরনের মাদক গ্রহণ না করা।

তিনি বলেন, ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত হাটতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করাতে হবে। বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেননা, স্থুল শরীর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। টেনশন মুক্ত থাকতে হবে।

যদি হৃদরোগ হয়েই যায় করণীয় বিষয়ে বললেন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের হার্টের তিনটি রক্তনালীতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি করে। ব্লকের পরিমাণ কম হলে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমেই হৃদরোগ সারানো সম্ভব। তবে ব্লকের পরিমাণ বেশি হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয় কতো শতাংশ ব্লক হয়েছে।
সঠিক ডায়গোনোসিসের পর একটি রক্তনালীতে ব্লক পাওয়া গেলে এনজিওপ্লাস্টি করে রিং পরানো হয়। এই চিকিৎসার পর ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রোগী অনেক দিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। এই চিকিৎসার খরচ একলাখ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব।

তিনটি রক্তনালীতেই ব্লক হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে বাইপাস সার্জারি করতে হয়। এই চিকিৎসা কিছুটা ব্যয়বহুল। দুই থেকে তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. রহমত বলেন, তবে আশার কথা হচ্ছে, হৃদরোগের সফল চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। তিনি আরও জানান, প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কম।

বাসায় বা কর্মক্ষেত্রে কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে, সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব হৃদরোগ সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন আর কিছু সাবধানতা মেনে চললে আমরা হার্ট সুস্থ রাখতে পারি।

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2021 Binodonbarta24.com
Theme customize By Theme Park BD